Home / আর্টিক্যাল/ব্লগ / মলাশয় ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিকার :

মলাশয় ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিকার :

ক্যানসার একটি মারাত্বক প্রাণঘাতী ব্যাধি যার অপর নাম মৃত্যু । শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ক্যানসার হতে পারে। তবে মলাশয়ের ক্যানসার অন্যান্য ক্যানসার হতে ভিন্নতর প্রকৃতির। মলাশয় ক্যান্সারের  কারণ প্রধানত কোষ্ঠকাঠিন্য । অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও মশলা জাতীয় খাবার মলাশয় ক্যান্সারের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া অধিক নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবনের ফলেও শরীরে বিভিন্ন প্রকৃতির  ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায় এবং অনেক ক্ষতি করে যেমন : হাড়ের ক্ষয় হয়, রক্তের সাথে মিশে রক্তের হিমায়িত গুন নষ্ট করে ফেলে। মলাশয় ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ : মলদ্বারে চুলকানি, মলত্যাগের সময় মলদ্বারে তীব্র ব্যাথা, রক্তস্রাব, মলের প্রকৃৃৃতিতে পরিবর্তন।এছাড়া  কিছু কিছু ক্ষেত্রে বয়সের কারনেও হয়ে থাকে। এ রোগ থেকে কিছুটা  রক্ষা পেতে  হলে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। নেশা জাতিয় খাদ্য যেমন, মদ, গাজা হেরোইন সিগারেট থেকে বিরত থাকতে হবে আর নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

বয়স কোলন ক্যান্সারের এক নম্বর কারন। ৫০ বছর বয়সের মধ্যে ২৫% মানুষের রেকটাল polyps দেখা দেয়। এই রেকটাল পলিপ থেকেই ক্যান্সার হতে পারে। মদ্যপান কোলন ক্যান্সারের দ্বিতীয় কারন। ডায়াবেটিক রোগিদের ক্ষেত্রে কোলন ক্যান্সারের  ঝুঁকি ৪০% বেশী অন্যদের তুলনায়।  অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খেলেও মলদ্বার ক্যান্সারের  ঝুঁকি বাড়ে। ২৫% মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি জেনেটিক।  অতিরিক্ত ধুমপান মলাশয়  ক্যান্সারের  অন্যতম কারন। বিশেষ লক্ষণ  :  মলদ্বার দিয়ে অতিরিক্ত    রক্তক্ষরণ ও কালো মলত্যাগ প্রধান লক্ষণ।        বয়স জনিত এবং জেনেটিক কারনের ক্ষেত্রে কিছুই করার নেই। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত বিশ্রাম এবং নিয়মিত শরীর চর্চা মলাশয় ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

  • বিভিন্ন ক্যান্সারজনিত কারন যেমন পরিবেশ বা বংশগত প্রভাবের কারণে মলাশয়ের মিউকোসাল এপিথেলিয়ামের টিউমারটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হলে তখন তাকে কোলন বা মলাশয়ের ক্যান্সার বলে। এটি সাধারণত মলাশয় এবং মলদ্বারের সংযোগ স্থানে হয়। সম্ভাবনার দিক দিয়ে গ্যাস্ট্রিক, খাদ্যনালী এবং কোলন ক্যান্সারের মধ্যে এর স্থান দ্বিতীয়। সাধারণত ৪০-৫০ বছর বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার বেশী দেখা যায়। এবং ৪০ বছরের নিচেকোলন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ১৫%। পুরুষ এবং নারী ভেদে এর অনুপাত হল ২ঃ১। প্রতিবছর যত প্রকারের ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয় তার মধ্যে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা  বেশি। মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা কোলন ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে এবং ডাক্তারদের মতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমেই কোলন ক্যান্সার হওয়ার প্রায় ৪৫% ঝুঁকি কমে যায়। তাই নিজেদের সুস্থতায় সতর্ক থাকা উচিত নিজেদেরকেই। ধুমপান বন্ধ করা, ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাকের পাশাপাশি কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ৪০ বছরের নিম্ন বয়সী ধূমপায়ীদের প্রায় ১৭% ঝুকি রয়ে যায় কোলন ক্যান্সারের এবং ৪০ বছরেরঊর্ধ্বে তা বেড়ে হয় ৩০-৩৫%।  লাল মাংস খাওয়া বন্ধ করা, গবেষণায় দেখা যায় লাল মাংস কোলন ক্যান্সারের জন্য অনেকাংশে দায়ী বিশেষ করে যদি তা নিয়মিত খাওয়া হয়। তাই লাল মাংস খাওয়া একদম কমিয়ে দিতে হবে ।  পেটের মেদ কমানোর চেষ্টা করা, গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বিশেষ করে যাদের পেটে মেদ জমার সমস্যা রয়েছে তাদের খুব সহজে এই কোলন ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি দেখা যায়। তাই যতোটা সম্ভব ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং পেটের মেদ কমানোর চেষ্টা করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম স্বাভাবিক নিয়মে যদি প্রতিদিন ব্যায়ামের  অভ্যাস তৈরি করেন তাহলে দেহে মেদ জমার সুযোগ পাবে না। এতে করে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি আপনাআপনিই অনেক কমে আসবে। প্রতিদিন সবুজ শাক সবজি ও ফলমূল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে প্রচুর শাকসবজি এবং ফল। যে সকল সবজি কাঁচা খাওয়া যায় তা কাঁচাই খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে দেহে বাড়তি ফ্যাট জমবে না এবং পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। মলাশয় ক্যানসার থেকে পরিত্রানের উপায় হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসব্জি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, খাবার পুরোপুরি চিবিয়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও মশলা জাতীয় খাবার পরিত্যাগ, ধুমপান পরিত্যাগ। পরিশেষে বলবো মলাশয় ক্যান্সার হয়ে গেলে বা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অতি তাড়াতাড়ি একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। লেখক : ডাঃ একেএম ফজলুল হক সিদ্দিকী ( মলদ্বার ব্যাধি গবেষক, চিকিৎসক ও কলামিস্ট)

 

Check Also

এনাল ফিস্টুলা বা ভগন্দরের পরিচয় :

এনাল ফিস্টুলা (anal fistula) বা ভগন্দর : এটি পায়ুপথের একটি বিরক্তিকর রোগ, যার উপস্থিতি রোগীর …